Saturday, 13 December 2014

বেচারা Bechara

রিয়া একদৃষ্টিতে ওর বামহাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলির দিকে তাকিয়ে আছে। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে । এক ফোঁটা দুফোঁটা রক্ত ঝরে পড়ছে ওর কোলের ওপর। সেই কতক্ষন ধরে যাঁতির ভেতর হাত ঢুকিয়ে আঙ্গুল কেটে রক্ত বের করার চেষ্টা করছে ও। এতক্ষন চেষ্টার পর অবশেষে দুই তিনফোটা রক্ত বেরুল কনিষ্ঠাঙ্গুলি কেটে । আহা নরম পুষ্পকলির মত আঙ্গুলগুলো এখন প্রচন্ড ব্যথায় নীল হয়ে আছে!
ঘটনা অতি সাধারন । সন্ধ্যায় বাম হাতের উল্টা পিঠ দিয়ে সে তার প্রানপ্রিয় স্বামী ফয়সালের ডান গালে থাপ্পড় মেরেছে । বেচারা কাঁদো কাঁদো মুখ করে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে পাশের ফ্ল্যাটে চলে গেছে।
এরপর কয়েক হাজার বার ফোন দেয়া হয়েছে।

Friday, 12 December 2014

সমাপ্তির গল্প Samaptir Golpo

দশ মাস পর দেশে ফিরেছে রায়হান । পিএইচডি কমপ্লিট করতে আরো এক বছর লাগবে ওর । বাসায় এসে রীতিমত লজ্জায় পড়ে গেছে । নতুন বাবা হয়েছে । ছেলের জন্য হাবিজাবি কিনে এনেছে । আর সবার জন্য কেনাকাটা করার সময় হয়ে ওঠেনি । এখন বড় আপা দুলাভাই আর ভাবী ওকে মাস্ট খেপাবে । পার্টটাইম জব করে নিজের খরচ থেকে বাঁচিয়ে দেশে পাঠানো সম্ভব হয়না রায়হানের। আইরিন নিজে একটা স্কুলে চাকরি করে হাত খরচটা মেটায় ।

Thursday, 11 December 2014

মাঝরাতের প্যাসেঞ্জার Majh rater passanger

রাস্তাটা এবড়োখেবড়ো ।
রিকশাওয়ালা উল্কার বেগে রিকশা চালানোর প্রতিজ্ঞা নিয়েছে সম্ভবত । সাজ্জাদ ঝাঁকুনি খেতে খেতে ভাবছিল বাড়ি পৌঁছানোর আগে গায়ের হাড়গোড় আস্ত থাকলে হয় !
রাত বাজে আড়াইটা । এত রাতে রিকশার প্রতিটা ঝাঁকুনি যে পরিমান বিকট শব্দ তৈরি করছে তা আর কিছুক্ষন চলতে থাকলে গাঁয়ের লোকজন ঘুম ভেঙ্গে উঠে আসবে লাঠি সোটা নিয়ে ।
এক পাশে ছোট একটা খাল অন্য পাশে ধানী জমি ।

Wednesday, 10 December 2014

অভিসপ্ত গাড়ি Avisapta Gari

তখন চলতে ছিল আষাঢ় মাস। আষাঢ় মাস ভ্রমনের জন্য মোটেও সুবিধার নয়। যখন তখন বৃষ্টির ফলে রাস্তা-ঘাট কাদায় সয়লাব হয়ে থাকে। তারপরও আমাকে যেতে হয়েছিল। কথা ছিল ভ্রমন সংঙ্গি হিসাবে আমার বাল্যবন্ধু ইমরান থাকবে। কিন্তু যাবার আগের দিন ইমরান আমাকে চৌধুরী সাহেবের বাড়ি যাবার বিস্তারিত ঠিকানাটা হাতে ধরিয়ে দিল। করুন গলায় বললো, দোস্ত প্লিজ তুই একা গিয়ে ঘুরে আয়। আমার অফিসের জরুরী কাজে আমাকে চট্রগ্রাম যেতে হবে। কণে তোর পছন্দ হলে পরের বার আমি আর তুই যাব।
ওর এমন অনায্য দাবী শুনে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।

একটি ভূতের গল্প Eti Ekti Bhooter Galpo

প্রায় একমাস ছুটি কাটিয়ে কলেজে পৌঁছাবার পর রাতেরবেলা আমাদের গল্প যেন আর ফুরাতেই চাইতোনা! একেজনের পেটে কত কথা! কার চুল কতো সে.মি বড় হলো এই ব্যপারে নিরীক্ষামূলক প্রতিবেদন উপস্থাপন থেকে শুরু করে ছুটিতে টিভিতে দেখে আসা বিজ্ঞাপনের মডেলদের অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ- নানারকম আলোচনায় গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকি আমরা। সেবারও ব্যতিক্রম হয়নি, ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র বের করে লকারে গুছিয়ে রাখতে রাখতে অনর্গল বকে যাচ্ছি। তখনই মৌসুমি ব্যাগ থেকে একটা কি যেন ক্রিমের টিউব বের করে আমাদের সবাইকে দেখিয়ে সেটার গুণকীর্তন করতে লাগলো, এইটা মাখলে নাকি একমাসের মধ্যে বিশিষ্ট অভিনেতা হাসান মাসুদও টম ক্রুজের মতো হয়ে যাবেন!  ওর কথা শুনে মাইকেল জ্যাকসনের জন্য মনটা হু হু করে কেঁদে উঠলো। আহারে বেচারা, খামোকাই বারবার প্লাস্টিক সার্জারি করতে গিয়ে মরলেন। তাম্মি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো এইরকম একটা

Tuesday, 9 December 2014

স্মৃতি কথন

'এভাবে আমাকে কাঁদাও কেনো?'
সেদিন আমি ফুঁপিয়ে কাঁদছিলাম তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে। কি এক প্রসন্ন হাসি হেসে তুমি আমার চুলে মুখ ডুবালে। আর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলেছিলে 'ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। এক মহাকাশ সমান, এক মহাসমুদ্র সমান। তুমি আমার, একান্ত আমার। শুধুই আমার'

এই বালক........এই!!!

(১)
বালকটিকে প্রথম খেয়াল করলাম ক্লাসে। একমনে পেন্সিল চিবুচ্ছিল। ভঙ্গীমা দেখে মনে হলো, পেন্সিল চিবুনোর উপর বুঝি নির্ভর করছে ওর জীবণ-মরণ! বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে গেলো। এই ছাগল কিনা আমার বায়োলোজি প্র্যাকটিকেলের পার্টনার! একটা সেরা অকর্মা। ছাত্র ভাল, হাতের লেখা আর বিচার-বুদ্ধি ও মোটামুটি মানের। তাই তাকে পার্টনার করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলাম। আর এখন ইচ্ছে করছে তার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানাই। কিংবা হাড্ডি দিয়ে ঝুনঝুনি! তাতে যদি কিছুটা রাগ কমে আমার। চোখ বড় বড় শ্বাস নিলাম। রাগ নিয়ণ্ত্রন করতে চাইছি আসলে। চোখ খুলে দেখলাম, সে এখনও নীরিহ পেন্সিলের রস আস্বাদনে ব্যস্ত! আর পারলামনা নিজেকে সামলাতে।

Monday, 8 December 2014

আজ যে ভীম একাদশী

গোপাল একাদশী করত। তার একাদশী করা অভ্যাস। গোপাল একাদশীর দিন সন্ধ্যেবেলায় প্রসাদ পেত লুচি, মিষ্টি- নানাবিধ ফল সহকারে। সেদিন যেন মহোৎসব লেগে যেত। গোপালকে ওভাবে একাদশীর দিন ভোজন করতে দেখে তার এক চাকর বললে, সামনের তারিখ থেকে আমিও একাদশী পালন করব বাবু। আমার একাদশী করার খুব ইচ্ছে। আপনি যদি আদেশ দেন আমি একাদশী করি। আমার খুব ইচ্ছা।গোপাল মুচকি হেসে বলল, খুবই ভাল কথা, এই তো চাই। একাদশী করা সকলের উচিৎ। দেহের উপকার, তার সাথেই মনেরও সাত্ত্বিকভাব সাধনের জন্য একাদশী সকলের করা উচিত।