গোপাল একবার দূর দেশে বেড়াতে যাবে বহুদিন ভাড়াটে বাড়িতে রয়েছে, একে একে অনেক আসবাবপত্র জমা হয়েছে। সে সব আসবাব সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব, অথচ বেচে যেতেই ইচ্ছে নেই। হেকে পয়সা পাবে। বেচে গেলে টাকা পয়সা যা পাওয়া যাবে এখন, তাতে ফিরে এলে সে টাকায় তো আর খরিদ করা যাবে না, ভালো ভালো আসবাবপত্র প্রায় সব গোপাল সকলের কাছ থেকে দান হিসাবে পেয়েছে তা তো বেচা উচিত নয়। তাহলে লোক কি বলবে? তাই কি করা যায় এ কথাই বার বার ভাবছে। আবার আসবাবপত্র রেখে যাওয়ার জন্যে ওই ভাড়া বাড়িটা বজায় রাখার কোনো মানে হয় না। কারণ অনেক টাকা ভাড়া গুনতে হবে। ভেবে ভেবে অবশেষে একটা ফন্দী বের করলে। গোপাল একটা বড় বন্ধকী দোকানে
এই নতুন সাইটিতে আপনারা বাংলায় ভালো ভালো গল্প পাবেন bangla galpo, gopal varer galpo, nitikathar galpo, bhuter galpo,hasir galpo
Monday, 8 December 2014
জাত-কুল সব গেল
গোপালের স্ত্রী নিজেই দেখাশোনা করে বড় মেয়েকে এক বামুনের বাড়িতে বিয়ে দিয়েছিল। সেই মেয়ের মেয়ে বড় হোল একদিন। তারই বিয়ের নিমন্তন্নে গোপালেরা উপস্থিত। স্ত্রী একান্তে ডেকে বললে, হ্যাঁ গা, আমাদের বড় মেয়ের জামাই নাকি জাতে নাপিত বামুন নয়। কিন্তু সে সম্বন্ধ তুমি কিছু জান কি?
স্ত্রীর কথা শুনে গোপাল বললে, আর চেপে যাও- আমিও আসলে বামুন নই, আমি জাতিতে নাপিত। তোমার বাপের কাছে জাত ভাঁড়িয়ে তোমাকে বিয়ে করেছি। তুমি জাতকুল হারালেও আমি মোটেই জাতকুল হারাইনি। জাতকুল আবার কি? ধন মানেই সব।
স্ত্রীর কথা শুনে গোপাল বললে, আর চেপে যাও- আমিও আসলে বামুন নই, আমি জাতিতে নাপিত। তোমার বাপের কাছে জাত ভাঁড়িয়ে তোমাকে বিয়ে করেছি। তুমি জাতকুল হারালেও আমি মোটেই জাতকুল হারাইনি। জাতকুল আবার কি? ধন মানেই সব।
ধরে আনতে বেঁধে আনা
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র একবার পেয়াদাকে ডেকে বললেন, ওরে ভজহরি ব্যাপারীকে একবার ডেকে আনবি তো। ভজহরি সরেস গুড়ের কারবার করত। পেয়াদা ব্যাপারীকে একেবারে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাজসভায় হাজির করলে। ভজহরি গোপালকে ধারে মাল দিতে চাইত না, তাই তার ওপর গোপাল চটে ছিল। পেয়াদা তাকে আজ একেবারে রাজসভায় বেঁধে এনেছে বলে গোপাল মনে মনে বেশ খুশিই হল। বলল,- বেশ হয়েছে শালাকে বেধেই এনেছে।
রাজা কিন্তু পেয়াদার ওপর চটে গিয়ে বললেন, আমি ভজহরিকে ডেকে আনতে বললুম, আর তুই কিনা একেবারে বেধে নিয়ে এলি?
রাজা কিন্তু পেয়াদার ওপর চটে গিয়ে বললেন, আমি ভজহরিকে ডেকে আনতে বললুম, আর তুই কিনা একেবারে বেধে নিয়ে এলি?
Sunday, 7 December 2014
বুদ্ধু বালক,চন্দ্রমানবী আর একটা লিস্ট
(১) "এই যে,নাও!" বলেই সুজানা আবীরের হাতে একটুকরা কাগজ ধরিয়ে দিল। আবীর বরাবরই মাঝারী স্বভাবের ছেলে। খুব বেশী সাহসী যেমন নয়,তেমনি ভীতু ও নয়। তবু সুজানা নামক এই অদ্ভুত সুন্দরী,ঝাড়িবাজ মেয়েটার সামনে আসলে ওর হাঁটুদ্বয় জোর পায়না। নিয়ণ্ত্রনহীন ঐচ্ছিক পেশী বনে যায়। আর বারবার পেছন ফিরে দৌড় প্রতিযোগীতায় নামার ইচ্ছে পোষণ করে!
Saturday, 6 December 2014
সর্দি মোছার পাছা
সেদিন বড় গঞ্জের হাটবার। সকলকে সেই হাটেবাজার করতে যেতে হয়। গোপাল গঞ্জের বাজারে চলেছে গ্রামের কয়েকজন চেনাজানা লোকের সঙ্গে গল্প করতে করতে। যেতে যেতে হঠাৎ গোপালের নজরে পড়ে, সামনে একটি মেয়েও যাচ্ছে বোঝা মাথায় নিয়ে। গোপাল ভালভাবে নজর দিয়ে দেখতে পেলে, মেয়েটি ভারি বোঝার জন্য হোক বা অন্য কোনও কারণে হোক কাঁদতে কাঁদতে আগে আগে চলেছে, আর ঘন ঘন একটা হাত দিয়ে সর্দি মুছছে পাছায় ঘষছে আনমনে। কাঁদলে সকলেরই নাকি সর্দি আসে এমনিতেই। সে একহাতে বোঝার টাল সামলাচ্ছে, আর এক হাত দিয়ে নাকের সর্দি টেনে পাছার মুছছে। আর এ অভ্যাসটাতো অল্প বিস্তর অনেকেরই থাকে, এ আর তাই তেমন নতুন কি?
মোসায়েবি সোজা নয় Mosayebi soja nai
খতেগঞ্জের এক জমিদার, তাঁর বড় সখ, গোপাল ভাঁড়ের মত তার সভাতেও এমনই একটি ভাঁড় রাখেন। কিন্তু মনে মত ভাঁড় আর তিনি পান না। একদিন গোপালকে ডেকে বললেন, বাপু গোপাল। তুমিই একটা লোক আমায় বাজিয়ে দেখে দাও- যেন মোটামটি তোমার মত হয়। গোপাল রাজী হয়ে বললে, তা বেশ। এ কাজের জন্য ঢ্যাড়া দিয়ে দিন, আমি তার মধ্যে থেকে উচিত লোক বাছাই করে দেব। বিজ্ঞপ্তি শুনে ভাঁড়ের কাজের জন্য উমেদার হয়ে অনেকেই এল। গোপাল তাদের অনেককে পরীক্ষা করতে লাগল কিন্তু কেউই পারল না। গোপালের ধাঁধার ঠিকমত জবাব না দিতে পে কেউ কেউ বাতিল হয়ে অনেকেই আবার গোপালের নাম শুনেই বে ইজ্জতির ভয়ে আগেই পিছুটান দিল।
গাছে কাঁঠাল গোফে তেল Gopal BHarer Galpo
গোপালের পাশের এক প্রতিবেশীর নাম কেদার। তার বাড়ির উঠানে কাঁঠাল গাছ ছিল। গাছটিতে প্রতি বছর বেশ বড় বড় কাঁঠাল হত। খেতে মধুর মত মিষ্টি। কিন্তু একটা কাঁঠালও সে কাউকে দিত না। গাছে একটি কাঠাঁল পাকলে তার গন্ধে পাড়া মাত করে তুলত। গোপাল যাচ্ছিল কেদারের বাড়ির সামনের রাস্তাদিয়ে। যেতে যেতে দেখলে কেদার দাওয়ায় বসে একবাটি সরষের তেল নিয়ে গোঁফে, বেশ করে মাখাচ্ছে। তাই দেখে গোপাল জিজ্ঞাসা করলে, কি হচ্ছে কেদার ভায়া।
কেদার বললে, গাছের বড় কাঠাঁলটা পাকবে মনে হচ্ছে তাই
কেদার বললে, গাছের বড় কাঠাঁলটা পাকবে মনে হচ্ছে তাই
Friday, 5 December 2014
নবাবের অষ্টাদশ-পর্ব মহাভারত কথা Gopal Varer Galpoi
একবার মুর্শিদাবাদের নবাবের খেয়াল হল, হিন্দুদের মত আমাকে নিয়ে মহাভারত রচিত হোক। যেমনি ভারা তেমনি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে নির্দেশ পাঠালেন, আপনাদের অর্থাৎ হিন্দুদের অনুকরণে, তাকে নিয়ে একটি নতুন মহাভারত পন্ডিতদের দিয়ে লিখে দিতে হবে একমাসের মধ্যে। সেইরূপ পন্ডিত অতি শীঘ্র নবাব দরবা পাঠান। যিনি রচনা করবেন তাঁকে প্রচুর আসরাফি পুরষ্কার দেওয়া হবে।নবাবের চিঠি পেয়ে মহারাজ এমন চিন্তায় পড়লেন যে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিলেন। কারণ এমন কে পন্ডিত আছে যে, সে হিন্দুদের মত করে মহাভারত লিখে দিতে সক্ষম হবে।
Subscribe to:
Posts (Atom)




.jpg)

