Sunday, 7 December 2014

বুদ্ধু বালক,চন্দ্রমানবী আর একটা লিস্ট

(১) "এই যে,নাও!" বলেই সুজানা আবীরের হাতে একটুকরা কাগজ ধরিয়ে দিল। আবীর বরাবরই মাঝারী স্বভাবের ছেলে। খুব বেশী সাহসী যেমন নয়,তেমনি ভীতু ও নয়। তবু সুজানা নামক এই অদ্ভুত সুন্দরী,ঝাড়িবাজ মেয়েটার সামনে আসলে ওর হাঁটুদ্বয় জোর পায়না। নিয়ণ্ত্রনহীন ঐচ্ছিক পেশী বনে যায়। আর বারবার পেছন ফিরে দৌড় প্রতিযোগীতায় নামার ইচ্ছে পোষণ করে!

Saturday, 6 December 2014

সর্দি মোছার পাছা

সেদিন বড় গঞ্জের হাটবার। সকলকে সেই হাটেবাজার করতে যেতে হয়। গোপাল গঞ্জের বাজারে চলেছে গ্রামের কয়েকজন চেনাজানা লোকের সঙ্গে গল্প করতে করতে। যেতে যেতে হঠাৎ গোপালের নজরে পড়ে, সামনে একটি মেয়েও যাচ্ছে বোঝা মাথায় নিয়ে। গোপাল ভালভাবে নজর দিয়ে দেখতে পেলে, মেয়েটি ভারি বোঝার জন্য হোক বা অন্য কোনও কারণে হোক কাঁদতে কাঁদতে আগে আগে চলেছে, আর ঘন ঘন একটা হাত দিয়ে সর্দি মুছছে পাছায় ঘষছে আনমনে। কাঁদলে সকলেরই নাকি সর্দি আসে এমনিতেই। সে একহাতে বোঝার টাল সামলাচ্ছে, আর এক হাত দিয়ে নাকের সর্দি টেনে পাছার মুছছে। আর এ অভ্যাসটাতো অল্প বিস্তর অনেকেরই থাকে, এ আর তাই তেমন নতুন কি?

মোসায়েবি সোজা নয় Mosayebi soja nai

খতেগঞ্জের এক জমিদার, তাঁর বড় সখ, গোপাল ভাঁড়ের মত তার সভাতেও এমনই একটি ভাঁড় রাখেন। কিন্তু মনে মত ভাঁড় আর তিনি পান না। একদিন গোপালকে ডেকে বললেন, বাপু গোপাল। তুমিই একটা লোক আমায় বাজিয়ে দেখে দাও- যেন মোটামটি তোমার মত হয়। গোপাল রাজী হয়ে বললে, তা বেশ। এ কাজের জন্য ঢ্যাড়া দিয়ে দিন, আমি তার মধ্যে থেকে উচিত লোক বাছাই করে দেব। বিজ্ঞপ্তি শুনে ভাঁড়ের কাজের জন্য উমেদার হয়ে অনেকেই এল। গোপাল তাদের অনেককে পরীক্ষা করতে লাগল কিন্তু কেউই পারল না। গোপালের ধাঁধার ঠিকমত জবাব না দিতে পে কেউ কেউ বাতিল হয়ে অনেকেই আবার গোপালের নাম শুনেই বে ইজ্জতির ভয়ে আগেই পিছুটান দিল।

গাছে কাঁঠাল গোফে তেল Gopal BHarer Galpo

গোপালের পাশের এক প্রতিবেশীর নাম কেদার। তার বাড়ির উঠানে কাঁঠাল গাছ ছিল। গাছটিতে প্রতি বছর বেশ বড় বড় কাঁঠাল হত। খেতে মধুর মত মিষ্টি। কিন্তু একটা কাঁঠালও সে কাউকে দিত না। গাছে একটি কাঠাঁল পাকলে তার গন্ধে পাড়া মাত করে তুলত। গোপাল যাচ্ছিল কেদারের বাড়ির সামনের রাস্তাদিয়ে। যেতে যেতে দেখলে কেদার দাওয়ায় বসে একবাটি সরষের তেল নিয়ে গোঁফে, বেশ করে মাখাচ্ছে। তাই দেখে গোপাল জিজ্ঞাসা করলে, কি হচ্ছে কেদার ভায়া।
কেদার বললে, গাছের বড় কাঠাঁলটা পাকবে মনে হচ্ছে তাই

Friday, 5 December 2014

নবাবের অষ্টাদশ-পর্ব মহাভারত কথা Gopal Varer Galpoi

একবার মুর্শিদাবাদের নবাবের খেয়াল হল, হিন্দুদের মত আমাকে নিয়ে মহাভারত রচিত হোক। যেমনি ভারা তেমনি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে নির্দেশ পাঠালেন, আপনাদের অর্থাৎ হিন্দুদের অনুকরণে, তাকে নিয়ে একটি নতুন মহাভারত পন্ডিতদের দিয়ে লিখে দিতে হবে একমাসের মধ্যে। সেইরূপ পন্ডিত অতি শীঘ্র নবাব দরবা পাঠান। যিনি রচনা করবেন তাঁকে প্রচুর ‍আসরাফি পুরষ্কার দেওয়া হবে।নবাবের চিঠি পেয়ে মহারাজ এমন চিন্তায় পড়লেন যে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিলেন। কারণ এমন কে পন্ডিত আছে যে, সে হিন্দুদের মত করে মহাভারত লিখে দিতে সক্ষম হবে।

চোরের আজব সাজা Gopal Bharer Galpo

একদিন গোপালের জ্বর হওয়ায় সে সেদিন রাজসভায় যেতে পারেনি। মহারাজ সভাসদদের নিয়ে নানা আলাপ আলোচনা করতে করতে হঠাৎ বললেন, আমার সভার মধ্যে এমন কি কেউ আছে, যে গোপালের ঘর থেকে কিছু চুরি করে আনতে পারে? যদি কেউ পারে, তবে সে সামান্য জিনিস হলেও আমি তাকে বিশেষভাবে পুরষ্কৃত করব।
তোমরা কেউ রাজী থাকলে বল।মহারাজের পুরষ্কার লোভেও কেউ রাজি হল না গোপালের ঘরে চুরি করতে। কারণ বড় চতুর সে।

Wednesday, 3 December 2014

রাহাপ্পু Rahappu

(১)
"রাহাপ্পুউউউউউউউউ!" সুজানা ভয়ে ভয়ে ডাকছে। রাহানুমা রাগী চোখে তাকালো। "কী হয়েছে?" "আমি ঘুমাবোতো!" "মানা করেছে কে?" "তুমি আসোনা,খাটে বস।" "কেন?তুই ঘুমাতে আমার খাটে বসতে হবে কেন?" বলেই রাহানুমা খাটে এসে বসে। সুজানা এগিয়ে বোনের কোলে মাথা রাখে। তার শিশুসুলভ ভঙ্গীমায় রাহানুমার রাগ পড়ে যায়।"সোনা,তুই এমন করিস কেন? সামির মাথাটা কেন ফাটিয়েছিস?" "ঐ বদ পোলাটা তোমাকে রাহাপ্পু বলেছে!" "ওতো ছোট আমার,তাই আপ্পু বলেছে!" "অন্য কিছু ডাকুক। রাহাপ্পুতো আমার দেয়া নাম!" সুজানা ছোট্ট দুই হাতে বোনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।

Tuesday, 2 December 2014

বন্ধ দরজা Bandh Daroja

(১) দুপুর বারোটা। ঠিক মধ্যদুপুর। অদ্ভুত কোন কারণে তখন আকাশটা আয়নার মত হয়ে যায়। আর সে আয়নায় প্রতিফলিত হয় সূর্যের যত ক্রোধ। কাঠফাটা রোদ বলে একটা কথা প্রচলিত আছে,যে রোদে কিনা কাঠ ফাটে। কিন্তু আজকের রোদটাকে বলা যায় লোহাগলা রোদ। এ রোদে লোহা গলবে। তাছাড়া গ্রীষ্মকালের মধ্যদুপুরের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। চারপাশে যেমন বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে,মরিচীকার জন্ম দেয়। তেমনি ভাবনাগুলো ও উল্টে পাল্টে যেতে থাকে।