Friday, 5 December 2014

চোরের আজব সাজা Gopal Bharer Galpo

একদিন গোপালের জ্বর হওয়ায় সে সেদিন রাজসভায় যেতে পারেনি। মহারাজ সভাসদদের নিয়ে নানা আলাপ আলোচনা করতে করতে হঠাৎ বললেন, আমার সভার মধ্যে এমন কি কেউ আছে, যে গোপালের ঘর থেকে কিছু চুরি করে আনতে পারে? যদি কেউ পারে, তবে সে সামান্য জিনিস হলেও আমি তাকে বিশেষভাবে পুরষ্কৃত করব।
তোমরা কেউ রাজী থাকলে বল।মহারাজের পুরষ্কার লোভেও কেউ রাজি হল না গোপালের ঘরে চুরি করতে। কারণ বড় চতুর সে।

Wednesday, 3 December 2014

রাহাপ্পু Rahappu

(১)
"রাহাপ্পুউউউউউউউউ!" সুজানা ভয়ে ভয়ে ডাকছে। রাহানুমা রাগী চোখে তাকালো। "কী হয়েছে?" "আমি ঘুমাবোতো!" "মানা করেছে কে?" "তুমি আসোনা,খাটে বস।" "কেন?তুই ঘুমাতে আমার খাটে বসতে হবে কেন?" বলেই রাহানুমা খাটে এসে বসে। সুজানা এগিয়ে বোনের কোলে মাথা রাখে। তার শিশুসুলভ ভঙ্গীমায় রাহানুমার রাগ পড়ে যায়।"সোনা,তুই এমন করিস কেন? সামির মাথাটা কেন ফাটিয়েছিস?" "ঐ বদ পোলাটা তোমাকে রাহাপ্পু বলেছে!" "ওতো ছোট আমার,তাই আপ্পু বলেছে!" "অন্য কিছু ডাকুক। রাহাপ্পুতো আমার দেয়া নাম!" সুজানা ছোট্ট দুই হাতে বোনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।

Tuesday, 2 December 2014

বন্ধ দরজা Bandh Daroja

(১) দুপুর বারোটা। ঠিক মধ্যদুপুর। অদ্ভুত কোন কারণে তখন আকাশটা আয়নার মত হয়ে যায়। আর সে আয়নায় প্রতিফলিত হয় সূর্যের যত ক্রোধ। কাঠফাটা রোদ বলে একটা কথা প্রচলিত আছে,যে রোদে কিনা কাঠ ফাটে। কিন্তু আজকের রোদটাকে বলা যায় লোহাগলা রোদ। এ রোদে লোহা গলবে। তাছাড়া গ্রীষ্মকালের মধ্যদুপুরের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। চারপাশে যেমন বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে,মরিচীকার জন্ম দেয়। তেমনি ভাবনাগুলো ও উল্টে পাল্টে যেতে থাকে।

Saturday, 29 November 2014

শৈল্পী [ Shilpir Galpo ]

 (১)

"আর কদ্দিন রে শুভ্র? তোর মত একটা জিনিয়াস যদি........" হতাশার তোড়ে তৃপ্তির কথা আটকে যায়। শুভ্র হেসে ফেলে বান্ধবীর অবস্থা দেখে। তার সামনে একটা পোর্টেট। তৃপ্তির দিকে তা ফিরিয়ে বলে,"দেখতো এবার।"
"ওয়াও!!!" তৃপ্তি চেঁচিয়ে ওঠে হটাত! "এটা আমি? সত্যি আমি? আমি এত্ত মায়াবতী?"
"মিথ্যে মিথ্যে ফুটিয়ে তুললাম আর কি!"
খোঁচাটা এড়িয়ে তৃপ্তি বলল,"নিয়ে যাই? বাঁধিয়ে ঝুলিয়ে রাখব বসার ঘরে। পিক তুলে ফেবুতে ও দিব। লোকে ডাকবে,"তৃপ্তি দ্য মায়াবতী।" আহ ভাবতে ও আবেগাপ্লুত হয়ে যাচ্ছি। নিই?"

লেইম লাভার ( Misti Premer Galpo )

নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তায় চলেছি একা- সেই আদি আমলের গানটা গাইতে গাইতে আপন মনে হাঁটছিলাম ! হঠাত্‍ বজ্রাহত হলাম !
না, ভুল ভাবছেন । ঢাকা শহরের অগণিত ম্যানহোল গুলোর মাঝে একটি আমাকে আপন ভেবে কাছে টেনে নেয় নি ! আপন মনে হাঁটলেও আমি যথেষ্ট সতর্ক ভাবেই হাঁটি ।
স্তম্ভিত হলাম কারণ ছোটকাল থেকে যেরকম রাজকুমারীর ছবি আমার মানসপটে লালন করে এসেছি ঠিক তার এক বাস্তবরূপই রাস্তার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে । চোখে মুখে বিচলতি ভাব । কি যেন খুঁজছে !
"পাইলাম ! আমি ইহারে পাইলাম !!" চারপাশের এত লোকজন, গাড়ি-ঘোড়া, বিল্ডিং সব হঠাত্‍ অদৃশ্য হয়ে আমি নিজেকে অবারিত সবুজের মাঝে আবিস্কার করলাম !

Thursday, 27 November 2014

ছায়াশরীরি মা

শাওনীর ডায়রি থেকে ::

আমরা মানুষরা ক্ষণস্থায়ী। এই আছি তো, এই নাই! কেও মারা গেলে ধীরে ধীরে তার স্মৃতিটুকু ও মুছে যায়। অথচ মৃত মানুষটাকিন্তু পুরোপুরি হারিয়ে যায়না ! কোথাও না কোথাও থেকে যায়। হয়ত অন্য কোনরূপে, কিংবা অন্য কোন মাত্রায় ! কোন এক অতৃপ্ত আশা পূরণের অপেক্ষায়..মৃত্যুর পরে আরেক জীবন আছে, আমরা জানি। আর আমি জানি, সবচাইতে আপন, প্রিয়মানুষগুলোর দ্বিতীয় জীবন হচ্ছে আমাদের অনুভূতি। তারা আমাদের অনুভূতিতে মিশে থাকে। আমাদের বিশ্বাস আর অস্তিত্বে মেশে থাকে। যার সাক্ষী আমি..!!! কিছুদিন আগের ঘটনাই ধরুন...

Wednesday, 19 November 2014

যতসব ভৌতিকতা ( সম্পূর্ণ )

সকাল থেকেই আমি মজিদ ভাইকে একটা বিশেষ উদ্দেশ্য খুঁজছি। লোকটির খুব মাছ ধরার নেশা। রাত-দুপুরে এখানে সেখানে মাছ ধরতে যায়। আমি একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম ভাই আপনার ভয় করেনা? সে বত্রিশ দাঁত বের করে বললো ভূতের কথা বলছো। আমিতো ভূত চাবাইয়া খাই। কিছুটা দৃষ্টিকটু তার দাঁতের দিকে আমার নজর পরলো দেখলাম দাঁত থেকে রক্ত বের হচ্ছে। কথার মাঝ খানে ওয়াক থু। থুথুর সাথে কিছুটা রক্তও বের হয়েছে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। আমারও আবার মাছ ধরার খুব সখ। তাই মজিদ ভাইয়ের সাথে আমার প্রচুর খাতির।

শেষ রাতের ট্রেন ( রহস্য রোমাঞ্চ ভৌতিক গল্প )

"এই চা গরম -চা গরম " - চিকন একটা গলায় চিৎকার করে চলেছে মিশকালো একটা লোক- হাতে এক বিশাল চায়ের ফ্লাক্স- চিল্লাতে চিল্লাতে রাজু সাহেবের সামনে মিনিট তিনেক ধরে ঘুর ঘুর করছে। যত বার রাজু সাহেবের সামনে যাচ্ছে ততবার রাজু সাহেব বিরক্ত হচ্ছেন- কিন্তু চা ওয়ালার কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। লাকসামের রেলস্টেশনের ওয়েটিং এ রাজু সাহেব আজ রাত্রের গুটি কয়েক যাত্রির মাঝে একজন। স্যুট বুট পড়া বলে রাজু সাহেবের দিকে বার বার এগিয়ে আসছে একের পর এক হকার।